skip to content
CurryNaari
Welcome to Nandini’s world of cooking & more...

নিজের কুকিং স্কিল আরো উন্নত করতে মেনে চলুন এই ৫টি টিপস

রান্না করাটা বেশ কঠিন একটা কাজ, বিশেষ করে নুন-মশলার আন্দাজ ঠিক করতে করতে অনেক দিন লেগে যায়। যদি তেল-নুন-মশলার আন্দাজ ঠিক হয়েও যায়, তারপরও কিছু ভুলের কারণে খাবারের স্বাদ মনমতো হয় না। রান্না করার সময় পূর্বপ্রস্তুতি, উপকরণের সঠিক মাপ, রন্ধন প্রণালী বাদেও আরো কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত। আপনি যদি একজন ভালো রাঁধুনী হোন, তাহলে নিজের কুকিং স্কিল আরো উন্নত করার জন্য মেনে চলুন এই ৫টি টিপস।

১. তাজা আইটেম ব্যবহার করুনঃ

তরতাজা শাকসবজি, মাছ-মাংসের কদরই আলাদা। এগুলো ফ্রিজে বেশী দিন রাখলে কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়। বাসি জিনিস দিয়ে রান্না করা খাবারে তেল-মশলা ঠিক থাকলেও খেতে বিস্বাদ লাগে। তাই চেষ্টা করবেন বাজার থেকে কাঁচা জিনিস কিনে এনে যত দ্রুত সম্ভব রান্না করে ফেলতে। যেদিন যে ডিশ রান্না করবেন সেদিন সকালে বাজার থেকে আইটেমগুলো কিনে আনবেন।

যদি ফ্রিজে রাখতেই হয় তাহলে চেষ্টা করুন কিনে আনার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টার মধ্যে রান্না করতে৷ আর যদি ফ্রিজে মাছ-মাংস স্টোর করে রাখতে চান তাহলে ভালো মানের প্লাস্টিক জিপ-লক ব্যাগ ব্যবহার করুন।

২. বাসনকোসন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুনঃ

বাসনকোসন যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকে বা ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করেন, তাহলে তার প্রভাব খাবারেও পড়বে। ফলে তৈরীকৃত খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, অথবা স্বাদ নষ্ট হতে পারে। যেমন ঢালাই লোহার বাসন অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করলে এর মেটাল নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে ঢালাই লোহার কড়াইতে সিজনিং করা আর সম্ভব হবে না৷ আবার স্টিলের মাজুনী দিয়ে ননস্টিক বাসন ঘষলে এর কোটিং উঠে যায়। এরপর এই বাসনে খাবার রাখলে বা রান্না করলে বিষক্রিয়া হয়। তাই সবসময় মেটালের ধরণ বুঝে বাসনকোসন পরিষ্কার করবেন।

মাছ-মাংস, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি খাবার কোন পাত্রে অনেক দিন রাখলে সে পাত্রে দুর্গন্ধ হয়। সেই দুর্গন্ধ পরে অন্য কোন খাবার ঐ একই পাত্রে রাখলে তাতে মিশে যায়। তাই এমনভাবে পাত্রটি পরিষ্কার করবেন যাতে দুর্গন্ধ ও দাগ দুটোই চলে যায়।

৩. কিচেন আইটেমে ইনভেস্ট করুনঃ

আপনার কিচেনে যদি পর্যাপ্ত আইটেম না থাকে, তাহলে যতই ভালো রান্না করুন না কেন, কোন লাভ নেই। রান্না করতে গেলে হরেক রকমের এক্সেসরিজ লাগে। নির্দিষ্ট এক ধরণের পাত্র বা ধারালো জিনিস সব ধরণের খাবারের সাথে যায় না। তাই খাবার সুস্বাদু ও কম সময়ে রান্না সম্পন্ন করতে চাইলে আপনার উচিত বিভিন্ন ধরণের কিচেন আইটেম কেনা। কিচেনে সসপ্যান, কড়াই, ফ্রাইপ্যান, প্রেসার কুকার, ননস্টিক বাসন সহ সব ধরণের পাত্র রাখবেন। খাবারের ধরণ বুঝে এগুলো ব্যবহার করবেন। ভালো মানের কিচেন নাইফ সেট কিনবেন। সেখানে মাছ, মাংস, ফল, সবজি কাটার জন্য আলাদা আলাদা ছুরি থাকে। আর মিক্সার, গ্রাইন্ডার, জুসার, ওভেন তো তালিকায় অবশ্যই থাকবে। তবে বাজেটের কথাটা কিন্তু মাথায় অবশ্যই রাখবেন।

এত জিনিস কিনতে খরচা তো আর কম হবে না। বাজেট সীমিত থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি শুধু কিনবেন। যেমন আলাদা আলাদা সসপ্যান ও ফ্রাই প্যানের চাইতে ঢালাই লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের বিভিন্ন সাইজের কড়াই কিনলে ভালো হয়। কড়াইতে তরকারি, ভাজি, রোস্ট সব করতে পারবেন। আবার বিভিন্ন ধরণের ছুরি-কাঁচি কিনতে না পারলে মাছ-মাংস কাটার জন্য একটা ছুরি, ফল-সবজি কাটার জন্য আরেকটা ছুরি, এবং একটা পিলার কিনবেন।

৪. থার্মোমিটার ব্যবহার করুনঃ

খালি চোখে তেল কতটুকু গরম হয়েছে তা চট করে বোঝা যায় না। এতে যেসব খাবার ডিপ ফ্রাই করার দরকার হয় সেগুলো সঠিক তাপমাত্রার অভাবে অনেক সময় বিগড়ে যায়। আবার ওভেন না থাকায় আপনি হয়তো গ্যাসে পুডিং, পিজ্জা, কেক ইত্যাদি বানাতে চাইছেন। এগুলো বানাতেও কিন্তু জল একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করতে হয়। নয়তো পুডিং, কেক জমে না। তেল বা জল সঠিক টেম্পারেচারে গরম করতে চাইলে ডিজিটাল ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করুন।

বাজারে মিট থার্মোমিটার কিনতে পাওয়া যায়, যা মাংস সুসিদ্ধ হয়েছে কিনা বুঝতে ব্যবহার করতে পারেন। রান্না করার পর হাড়-চর্বি এড়িয়ে মাংসের একদম মোটা অংশটায় মিট থার্মোমিটার ঢুকিয়ে দিবেন। মিটারে যে রিডিং আসবে তা থেকে বুঝতে পারবেন মাংস সঠিক টেম্পারেচারে সিদ্ধ হয়েছে কিনা। আবার চাইলে রান্নার শুরুতেই মিট থার্মোমিটার মাংসে লাগিয়ে রাখতে পারেন। যখন মিটারে কাঙ্ক্ষিত টেম্পারেচার উঠে আসবে তখন মাংস নামিয়ে ফেলবেন।

৫. ম্যারিনেড তৈরি করুনঃ

বাড়িতেই যদি রেস্টুরেন্টের মতো স্বাদ পেতে চান তাহলে হোমমেইড ম্যারিনেড তৈরি করে রাখুন। এটা আপনার রান্নায় আলাদা মাত্রা যোগ করবে। যেমন নুডলস, পাস্তা, চাওমিনের জন্য সিক্রেট মশলা বা সস তৈরি করতে পারেন। আবার ঘরে বিভিন্ন রকমের মশলা দিয়ে গ্রেভি তৈরি করতে পারেন। এই গ্রেভি প্রোটিন, ভিটামিন, এবং কার্বোহাইড্রেট আইটেমে ব্যবহার করতে পারবেন।

মাংসের বিভিন্ন আইটেমের জন্য বিভিন্ন ধরণের ম্যারিনেডের দরকার হয়। এগুলো দিয়ে মেরিনেট করে রাখলে মাংস খেতে বেশ নরম ও সুস্বাদু হয়। এসব ম্যারিনেড বা সিক্রেট সস ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে সারাবছর নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন।

Article Tags:
·
Article Categories:
Food-kitchen-insights · Tips & Hacks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *