skip to content
CurryNaari
Welcome to Nandini’s world of cooking & more...

মেথির উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন বিশেষ কিছু তথ্য

মেথির উপকারিতা

মেথি একাধারে খাবার, মসলা, এবং পথ্য। ছোট্ট মুগ ডালের সদৃশ এই দানাদার জিনিসটি মানবদেহে হাজারো রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। তাই কবিরাজি, ইউনানি, এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় যুগ যুগ ধরে মেথির ব্যবহার হয়ে আসছে। মেথির মতো এর শাকপাতাও সমান উপকারী। রইলো মেথির উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

মেথির উপকারিতাঃ

১. ওজন কমায়ঃ

মেথির ফাইবার হজম হতে অনেক সময় নেয়। তাই এটি দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকে এবং ক্ষুধা অনুভূত হয় না। নিয়মিত মেথি খেলে বেশি খাওয়ার তাগিদ থাকে না। তাই ওজন কমানো সহজ হয়ে যায়। ওজন কমানোর জন্য সপ্তাহে দুই-তিনদিন ১ টেবিল চামচ কাঁচা মেথি চিবিয়ে খাবেন বা সারারাত ভিজিয়ে সকালে খাবেন। মেথি ভেজানো পানিটাও কিন্তু স্থুলতা কমানোর জন্য উপকারী।

২. হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখেঃ

শরীরে কোলেস্টেরল জমে গেলে তা হৃদযন্ত্রের ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি করে। ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মেথিতে বিদ্যমান স্টেরিওডাল সেপোনিনস দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং জমতে দেয় না।
আবার এতে থাকা গ্লেকটোম্যানান হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্তে লবণের আধিক্য কমায়। ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের কারণে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকেও নিয়ন্ত্রণ করে মেথির বীজ।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ

দেহে ক্যান্সারের কোষ জন্ম নেয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো, রক্তে টক্সিক উপাদান বেড়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে টক্সিক উপাদান বাড়তে থাকার সাথে সাথে ক্যান্সারের কোষ বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। মেথির বীজ রক্তে বসত গড়া টক্সিক উপাদানগুলো বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার দেহে ঘাঁটি গাড়তে পারে না। স্তন ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য মেথি বেশ কার্যকর।

৪. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ

নিয়মিত মেথি ভেজানো জল খেলে দেহে গ্লেকটোম্যানানের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এই উপাদান দেহের শর্করা শোষণের ক্ষমতা কমায় এবং ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া আটকায়। আবার মেথির অ্যামাইনো অ্যাসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে সাহায্য করে। দেহে ইনসুলিনের পর্যাপ্ততা থাকলে গ্লুকোজের পরিমান হ্রাস পায়।

তেঁতো স্বাদের মেথিতে আছে রক্তের চিনি কমানোর অসাধারণ এক ক্ষমতা। ফলে টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়বেটিসের জন্য মেথির চাইতে উপকারী জিনিস খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

আপনি যদি টাইপ ১ ডায়বেটিক রোগী হোন, তাহলে দিনে দুইবার ৫০ গ্রাম করে মেথি খাবেন। আর যদি হোন টাইপ ২ রোগী, তাহলে দিনে দুইবার ২.৫ গ্রাম করে মেথির গুঁড়ো খাবেন। টানা ৩ মাস এভাবে খেলে উপকার পাবেন নিশ্চিত।

৫. হজমশক্তি বাড়ায়ঃ

পেট জ্বালা, বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া, বুক বা পেটের উপরের দিকে অ্যাসিডের প্রদাহ সারাতে মেথি অনন্য৷ এর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলো বের করে অন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে পেপটিক আলসারের মতো জটিল রোগের সম্ভাবনাও কমে যায়।

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খাবেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এবং কৃমিও দূর হবে। মেথির গুঁড়ো ঘোলের সাথে মিশিয়ে খেলে সাধারণ আমাশয় দূর হবে। আবার দইয়ের সাথে মেথি গুঁড়ো খেলে রক্ত আমাশয় নির্মূল হবে।

৬. জ্বর ও সর্দি-কাশি সারায়ঃ

ঋতু পরিবর্তনের কারণে হওয়া জ্বর জ্বর ভাব এবং সর্দি-কাশি সারাবে মেথি। এতে আছে মুসিলেজ নামক এক ধরণের যৌগ এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান, যা জ্বরের প্রকোপ, গলার খুসখুসে ভাব, এবং গলা ব্যথা উপশম করে। সাধারণ জ্বর ও সর্দি-কাশি কমাতে ১ টেবিল চামচ মেথির সাথে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাবেন।

৭. গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের সাহায্য করেঃ

মেথি মেয়েদের জরায়ুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের যন্ত্রণা কমায়। ফলে সন্তান জন্মদান অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মেথি সেবন করলে গর্ভপাত ও অপরিণত সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি থাকে। নারীদেহ সুগঠিত করে মেথির সাইটোইস্ট্রোজেন নামক উপাদান।

প্রসূতি মায়েদের বুকের দুধ বাড়াতেও সাহায্য করে মেথি। যা সম্ভব হয় ফাইটোইস্ট্রোজেন নামক উপাদানের কারণে। শুধু মেথি বীজ খাওয়ার বদলে মেথির চা-ও পান করা যায় দুধ বাড়ানোর জন্য। যখন শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাবে তখন তাদের ওজনও বৃদ্ধি পাবে।

৮. কিডনি সুস্থ রাখেঃ

মেথির বীজ, মেথির রস, বা চা করে খেলে কিডনিতে পাথর জমে না। পাশাপাশি এটি কিডনির ফাংশন ঠিক রাখে এবং মূত্রথলি সুস্থ রাখে।

৯. পিরিয়ড পেইন কমায়ঃ

পিরিয়ড পেইনের অনুভূতি ঠিক যেন ধারালো ছুরি দিয়ে তলপেট ছিঁড়ে ফালাফালা করে দেয়ার মতো। তীব্র যন্ত্রণাদায়ক পিরিয়ড পেইন কমাতে মেথি গুঁড়ো সেবন করা যায়। মাসিকের প্রথম তিন দিন ১.৫ থেকে ২.৫ গ্রাম করে মেথির গুঁড়ো খেতে হবে। এরপর বাকি দিনগুলোতে ৯০০ মিলিগ্রাম করে খেতে হবে। মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে মেথির গুঁড়ো খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে দৈনিক তিন বার৷

১০. বাত কমায়ঃ

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাত শরীরে জেঁকে বসে৷ বাত রোগ নিরাময়ের জন্য মেথি খেতে পারেন। ৪ গ্রাম মেথি ও ৪ গ্রাম শুকনা আদা চূর্ণ এক মুঠো গুড়ের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খাবেন। বাতের ব্যথা কমে যাবে। বৃদ্ধ বয়সে শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর পরিমাণ কমে যায়। মেথি এই উপাদানগুলোর মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

১১. চুল ও স্ক্যাল্প সুস্থ-সুন্দর রাখেঃ

মেথি চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়া আটকায়। চুলের যত্নে মেথি সরাসরি খাওয়া যায় বা বেটে মাথায় লাগানো যায়৷ মেথি সেদ্ধ করে বেটে নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে চুল পড়া কমবে।

মেথিতে আছে নিকোটিন অ্যাসিড ও লেসিথিন, যা হেয়ার ফলিকল মজবুত করে, পাতলা চুল ঘন করে, এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটায়৷ আবার এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টিজ স্ক্যাল্পের ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। রুক্ষ, শুষ্ক স্ক্যাল্প এবং ডার্মাটিটিস নিরাময় করবে মেথির বীজ।

২ টেবিল চামচ মেথি বীজ ১ কাপ জলে সারারাত ভিজিয়ে সকালে বেটে পেস্ট করে নিন। এর সাথে মেশান খানিকটা টক দই, তবে না দিলেও সমস্যা নেই। এবার এই পেস্ট স্ক্যাল্পে ও চুলের গোড়ায় ভালো করে মাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপরে ধুয়ে ফেলুন।

১২. ত্বক সুন্দর করেঃ

ত্বক থেকে ডার্ক সার্কেল, বলিরেখা, বয়সের ছাপ, কালো দাগ, রোদে পোড়া দাগ, ব্রণ, এবং ব্রণের দাগ দূর করতে মেথির জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত মেথি সেবন বা মেথির ফেস প্যাক ব্যবহারে এই সব সমস্যা দূর হতে বাধ্য।
মেথির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের একদম গভীর স্তর পর্যন্ত যায়। আবার মেথি ত্বকের এপিডারমিস স্তর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়।

পরিমাণ মতো মেথি বীজ বাটা ও মধু একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর এটি ব্রণের উপর লাগিয়ে সারারাত রেখে সকালে হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। টানা কয়েকদিন ব্যবহারে ব্রণ ও ব্রণের দাগ হালকা হয়ে যাবে।

Article Tags:
Article Categories:
Lifestyle

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *